সরাইলে পাশাপাশি কবরে চির নিদ্রায় শায়িত অগ্নিকান্ডে নিহত একই পরিবারের ৫জন
বার্তা সম্পাদক প্রকাশিত: ৬:৫২ অপরাহ্ণ , ১ মার্চ ২০২৪, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
সরাইলে পাশাপাশি কবরে চির নিদ্রায় শায়িত অগ্নিকান্ডে নিহত একই পরিবারের ৫জন
এম এ করিম সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :
ঢাকার বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে অগ্নিকান্ডে নিহতদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাই উপজেলার শাহবাজপুর খন্দকার পাড়ার একই পরিবারের ইটালি যাত্রী ৫ জনকে পাশাপাশি কবরে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মার্চ) বাদ আছর জানাযা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি ৫ টি কবরে দাফন করা হয়েছে। অগ্নিকান্ডে নিহত একই পরিবারের ৫ জন হলেন খন্দকার পাড়ার মৃত কাসেম মিয়ার পুত্র ইটালি প্রবাসী সৈয়দ মোবারক (৫১), তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম (৩৮), কলেজ ছাত্রী মেয়ে সৈয়দা কাসফিয়া ও স্কুল ছাত্রী অপর মেয়ে সৈয়দা নুর এবং ৭ বছরের পুত্র সন্তান সৈয়দ আব্দুল্লাহ।
নিহত মোবারকের চাচাত ভাই সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন মোবারক। কিছু দিন আগে ইটালি থেকে ছুটিতে দেশে এসেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি বেইলি রোডের ঐ রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলেন । শীঘ্রই পুরো পরিবারকে সাথে নিয়ে ইটালি যাওয়ার সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা থাকলেও পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে আর ইটালি যাওয়া হল না মোবারকের। পরিবার নিয়ে একই সাথে রেস্টুরেন্টে খাওয়াও হল না তাদের।
সরজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার (১ মার্চ) বাদ আছর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি ৫ টি কবরে দাফন করা হয়েছে নিহত মোবারকসহ পরিবারের ৫ জনকে। এর আগে বিকাল ৩ টায় ৫ জনের মরদেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন নিহতদের লাশ এক নজর দেখতে তাদের গ্রামের বাড়িতে ভীড় জমান। এ সময় শোকাহত অনেকেই কান্নায় পরিবারের সকলকে হারিয়ে নি:সঙ্গ হয়ে যাওয়া মোবারকের বৃদ্ধ মা শুধুই কান্না করছিলেন। স্বজনহারা এই মায়ের কান্নায় যেন আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠছিল। বাদ আছর স্থানীয় জামে মসজিদের কাছে খোলা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি ৫ টি কবরে তাদের দাফন করা হয়। ঢাকায় অগ্নিকান্ডে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর খন্দকার পাড়ার একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চৌধুরী বাদল বলেন, খুবই ভালো মানুষ ছিলেন মোবারক। এমন একটি পরিবারের সকল সদস্যের আকস্মিক নির্মম মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না আমরা। শোকে কাতর হয়ে পড়েছে গোটা ইউনিয়ন। শোকাহত হয়ে পড়েছে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ।
















আপনার মন্তব্য লিখুন