সরাইল মনোয়ারা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত রহিমার লাশ ৫ লাখ টাকা রফাদফায় দাফন, জন্মধাত্রী মাকে চির বিদায় দিল এতিম দুই শিশু
বার্তা সম্পাদক প্রকাশিত: 4:43 pm , 30 July 2026, Thursday , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
সরাইল মনোয়ারা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত রহিমার লাশ ৫ লাখ টাকা রফাদফায় দাফন, জন্মধাত্রী মাকে চির বিদায় দিল এতিম দুই শিশু
এম এ করিম সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল মনোয়ারা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত রহিমার লাশ এলাকায় আসার পর বিচারের দাবিতে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। রহিমা হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধনসহ আন্দোলনে নামার হুমকি দেয় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।
বুধবার(২৯ জুলাই) সন্ধায় এম্বুলেন্সযোগে লাশ বাড়িতে আসার পর রাত ২টায় মনোয়ারা হাসপাতালের পরিচালক বিপ্লব মিয়া এলাকার সাহেব সর্দারদের নিয়ে সালিশ বৈঠক করে ৫লাখ টাকা রফাদফা করে মৃত রহিমার স্বামী হেলাল মিয়াকে দিয়ে পুরো ঘটনার সমাপ্তি ঘটান। পরদিন সকালে স্থানীয় কবরস্থানে রহিমাকে দাফন করা হয়। অশ্রুসিক্ত নয়নে দুই অবুঝ শিশু সন্তান চির বিদায় দেন তাদের জন্মধাত্রী মাকে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসের ২৬ তারিখ হেলাল মিয়ার ৫ মাসের অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী রহিমা বেগমের পেটের বাচ্চা মারা যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিৎ হয়ে রহিমা বেগম স্বজনদের নিয়ে মনোয়ারা হাসপাতালে যান চিকিৎসার জন্য। হাসপাতালের পরিচালক বিপ্লবের নির্দেশনায় ১০ হাজার টাকা রফাদফায় তখন হাসপাতালটিতে ডাক্তার ডিএনসি করার কথা থাকলেও নার্সের মাধ্যমে ডিএনসি করা হয়। স্বজনরা জানান, ডাক্তারের পরিবর্তে কর্তব্যরত একজন নার্স গোপনাঙ্গ দিয়ে ডিএনসি করার সময় পেটের খাদ্য নালী কেটে ফেলেন। এ সময় তড়িগরি করে রোগীর অবস্থা ভাল বলে স্বজনদেরকে বুঝ দিয়ে রোগীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে যাওয়ার পর রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে রোগীর পেট ফুলে যায়।
পরে স্বজনরা রোগীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘাটুরা নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেটের খাদ্যনালী কাটা ও রোগীর অবস্থা গুরুতর দেখে রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন। পরে এম্বুলেন্সযোগী স্বজনরা রোগীকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে রহিমাকে বাঁচানোর শত চেষ্টা করেও অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার(২৯ জুলাই) সকালে রহিমা বেগম মারা যায়।
ইতিপূর্বে মনোয়ারা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা, রোগীর স্বজনদের সাথে খারাপ ব্যবহার, অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ অনেক অভিযোগ রয়েছে মনোয়ারা হাসপাতাল ও এর পরিচালক বিপ্লবের বিরুদ্ধে।
এ ব্যপারে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডাক্তার মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার(৩০ জুলাই) সকালে মনোয়ারা হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে নানা অসংঙ্গতি পেয়ে ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এনেসথেশিয়া না থাকায় হাসপাতালে ওটি কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটির লাইসেন্স নবায়ন না করা পর্যন্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।











আপনার মন্তব্য লিখুন