EN

সরাইলে মনোয়ারা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, সুষ্ঠু বিচার দাবি অন্যথায় মানববন্ধন

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: 1:19 am , 30 July 2026, Thursday , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে

সরাইলে মনোয়ারা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, সুষ্ঠু বিচার দাবি অন্যথায় মানববন্ধন

এম এ করিম সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সদরের বড্ডাপাড়া গরুর বাজারের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত মনোয়ারা হাসপাতালের পরিচালক বিপ্লবের নির্দেশনায় ডাক্তারের পরিবর্তে নার্স দিয়ে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দটুলা গ্রামের পশ্চিমপাড়া বন্দেরবাড়ি এলাকার সিএনজি চালক হেলাল মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগমকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেওয়ার এ অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যপারে এলাকার জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

  ভুক্তভোগী পরিবার ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসের ২৬ তারিখ হেলাল মিয়ার  ৫ মাসের অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী রহিমা বেগমের পেটের বাচ্চা মারা যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিৎ হয়ে রহিমা বেগম স্বজনদের নিয়ে মনোয়ারা হাসপাতালে যান চিকিৎসার জন্য। হাসপাতালের পরিচালক বিপ্লবের নির্দেশনায় ১০ হাজার টাকা রফাদফায় তখন হাসপাতালটিতে ডাক্তার  ডিএনসিসি করার কথা থাকলেও নার্সের মাধ্যমে ডিএনসিসি করা হয়। স্বজনরা জানান, ডাক্তারের পরিবর্তে কর্তব্যরত একজন নার্স গোপনাঙ্গ দিয়ে ডিএনসিসি করার সময় পেটের খাদ্য নালী কেটে ফেলেন। এ সময় তড়িগরি করে রোগীর অবস্থা ভাল বলে স্বজনদেরকে বুঝ দিয়ে রোগীকে  বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।  বাড়িতে যাওয়ার পর রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে রোগীর পেট ফুলে যায়।

পরে স্বজনরা রোগীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘাটুরা  নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেটের খাদ্যনালী কাটা ও রোগীর অবস্থা গুরুতর দেখে রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন। পরে এম্বুলেন্সযোগী স্বজনরা রোগীকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। রহিমা বেগমের চিকিৎসা ব্যয় মেঠাতে রহিমার স্বামী সিএনজি চালক হেলাল মিয়ার আয় রোজগারের একমাত্র সম্বল একটি মাত্র সিএনজি বিক্রি করে দেয়। রহিমাকে বাঁচানোর  শত চেষ্টা করেও অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার(২৯ জুলাই) সকালে রহিমা বেগম মারা যায়। সন্ধার দিকে রহিমার লাশ বাড়িতে আসলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।  স্বজনদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। রহিমার এতিম দুটি শিশু সন্তানের কান্নায় এ সময় উপস্থিত অনেকে ঢুঁকরে কেঁদে ফেলে। এলাকার শত শত মানুষ হেলাল মিয়ার বাড়িতে ভীড় জমায়। এ সময় মনোয়ারা হাসপাতাল ও হাসপাতলটির পরিচালক বিপ্লবের বিরুদ্ধে  বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী।

ইতিপূর্বে মনোয়ারা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা, রোগীর স্বজনদের সাথে খারাপ ব্যবহার, অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ অনেক অভিযোগ রয়েছে মনোয়ারা হাসপাতাল ও এর পরিচালক বিপ্লবের বিরুদ্ধে।

এ ব্যপারে সৈয়দটুলা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল করিম জানান,  সরাইল উপজেলা  সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তথা সরকারি হাসপাতাল  নিকটে থাকা সত্ত্বেও কিছু দালালের ছত্র ছায়ায় রোগীদের স্বজনদেরকে নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে মনোয়ারা হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি করে রোগীর স্বজনদের নানাভাবে হয়রানি ও  রোগীকে প্রায়ই ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়।  বিশেষ করে চাতল পাড়, মহিষবেড়, জয়ধরকান্দি, সরাইল ও নাসিরনগরের উত্তরাঞ্চলের রোগীদেকে বিপাকে ফেলে রমরমা ব্যবসা করছে হাসপাতালটির পরিচালক বিপ্লব। তার এ রমরমা ব্যবসায় ইউপি সচিব ও কতিথ সাংবাদাকিসহ একটি প্রভাবশালী বড় চক্র অন্তরালে কাজ করে তাকে শেলটার যোগায়।

এ ব্যপারে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আবদুল করিম তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, কয়েক বছর আগে  মহিষবেড় থেকে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী প্রেগনেন্সি সমস্যায় হাসপাতালটিতে আসলে মোটা অংকের টাকার রফাদফায় নার্স দিয়ে সিজার অপারেশন করানো হয়। অপারেশনের পর রোগীর স্বজনদেরকে রক্ত এনে দিতে চাপ দেয় হাসপাতালের পরিচালক বিপ্লব। রক্ত লাগার বিষয়টি অপারেশনের আগে বলায় হয়নি কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে রোগীর স্বজনদের সাথে খারাপ আচরন করেন হাসপাতালের পরিচালক বিপ্লব। এভাবে বহু রোগীর স্বজনদেরকে হয়রানি ও নাজেহাল করার অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের পরিচালক বিপ্লবের বিরুদ্ধে। বিপ্লবের হাসপাতাল ব্যবসার পক্ষে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট অন্তরালে কাজ করে বলে এলাকায় চাউর রয়েছে।

এ ব্যপারে ভুল চিকিৎসায় মৃত রহিমার নিকটাত্বীয় ও স্থানীয় এলাকাবাসী মাহবুব মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, মনোয়ারা হাসপাতালের পরিচালক বিপ্লবের নির্দেশনায় ডাক্তারের পরিবর্তে একজন নার্স দিয়ে ভুল চিকিৎসা করিয়ে রহিমাকে মারা হয়েছে। ডিএনসিসি করানোর নামে রহিমার পেটের খাদ্য নালি কেটে তাকে মারা হয়েছে। এতিম করা হয়েছে রহিমার দুটি শিশু সন্তানকে। এ ব্যপারে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দেওয়া হবে।  অবিলম্বে মনোয়ারা হাসপাতালের চিকিৎসা করার লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।  হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মাহবুব আরও বলেন, মনোয়ারা হাসপাতালের পরিচালক বিপ্লব ও সংশ্লিষ্ট নার্সের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে অন্যথায় এলাকাবাসীকে নিয়ে মানববন্ধনসহ আন্দোলন গড়ে তোলা  হবে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
আরও পড়ুন