সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দেড় কিলোমিটার এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, জনমনে স্বস্থি
বার্তা সম্পাদক প্রকাশিত: 12:27 am , 21 August 2026, Friday , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দেড় কিলোমিটার এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, জনমনে স্বস্থি
এম এ করিম সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়য়ার সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সরাইল কুট্টাপাড়া মোড় থেকে ইসলামাবাদ(গোগদ) পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এতে মহাসড়কে দিনে ও রাতে চুরি, ছিনতায় ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত হওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী স্বস্থি প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, সরাইল কুট্টাপাড়া মোড় থেকে পূর্বদিকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এ অংশে দিনে ও রাতে প্রায়ই ছিনতায় ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। রাতে যানবাহন থামিয়ে যানবাহনে ডাকাতি হওয়ার মত অনেক ঘটনা মহাসড়কের এ অংশে অতীতে ঘটেছে। এছাড়া অটোরিক্সা চালককে খুন করে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে অটোরিক্সা নিয়ে যাওয়ার মত ঘটনাও অতীতে মহাসড়কের এ অংশে ঘটেছে। সর্বশেষ গত ১০ জুলাই দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্র্যাক অফিসের পূর্বপাশে কুট্টাপাড়া গ্রামের আজগর আলীর পুত্র কিশোর জিহাদ মিয়াকে(১৭) দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ১৯ জুলাই সকাল ১১টায় মহাসড়কের কুট্টাপাড়া মোড়ে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী জিহাদ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করে।
এ সময় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের আশ্বাসসহ জিহাদ হত্যায় জড়িত আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার বিষয়টি তুলে ধরে বক্তব্য দিলে এলাকাবাসী শান্ত হয়ে অবরোধ তুলে নেন। এ ব্যপারে নয়াদিগন্তের অনলাইনে ও পরদিন নয়াদিগন্ত পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার, সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবু তাহের দেওয়ান ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জিহাদ হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মহাসড়কের বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখেন। এ সময় বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার মহাসড়কের কুট্টাপাড়া মোড় থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে স্থানীয় ভিক্টর ব্যাগ ফ্যাক্টরীর মালিককে তাৎক্ষনিক অনুরোধ করেন।
বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার এর অনুরোধে সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া মোড় থেকে ইসলামাবাদ(গোগদ) পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জনস্বার্থে ভিক্টর ব্যাগ ফ্যাক্টরীর নিজস্ব অর্থায়নে শক্তিশালী সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন ভিক্টর ব্যাগ ফ্যাক্ট্রীর মালিক। এতে মহাসড়কের এ অংশে অপরাধ প্রবনতা অনেকাংশেই কমে আসবে বলে ধারনা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। যেকোনো অপরাধ এখানে সংঘটিত হলে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসাও অনেকটা সহজ হবে বলে ধারনা করছেন এলাকাবাসী।
অপরাধ প্রবনতা রোধে মহাসড়কের এ অংশে দুই পাশের ঝোঁপ-ঝাড় নিজে উপস্থিত থেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার। স্থানীয় এলাকাবাসী চেয়ারম্যানের এ প্রশংসনীয় কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ ব্যপারে বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল কুট্টাপাড়া মোড় থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত এলাকায় অতীতে অনেক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু মহাসড়কে কোনো সিসি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা অনেক সময় সম্ভব হয় না। জনস্বার্থ বিবেচনায় সরাইল থানার ওসি মহোদয় ও হাইওয়ে থানার ওসি মহোদয়কে সাথে নিয়ে স্থানীয় ভিক্টর ব্যাগ ফ্যাক্টরীর মালিককে আমি অনুরোধ করেছিলাম মহাসড়কের এই অংশে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য। আমার অনুরোধে ভিক্টর ব্যাগ ফ্যাক্টরীর মালিক সাড়া দিয়ে তাদের নিজস্ব অর্থায়নে মহাসড়কের এ অংশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করায় আন্তরিকভাবে আমি ভিক্টর ব্যাগ ফ্যাক্টরীর মালিককে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে মহাসড়কের এ অংশে অপরাধমূলক কর্মকান্ড কমে যাবে এবং অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
ভিক্টর ব্যাগ ফ্যাক্টরির মালিক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি নেতা আনোয়ারের অনুরোধে মহাসড়কের কুট্টাপাড়া থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। আশা করি এতে অপরাধ প্রবণতা কমে আসার পাশাপাশি এলাকার জনগণ উপকৃত হবেন।’











আপনার মন্তব্য লিখুন