১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

EN

সরাইলে পিডিবি’র বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 years আগে

 

সরাইল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ডেস্কঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পিডিবি’র বিদ্যূৎ গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিটার না দেখে মিটারের রিডিং এর সাথে অসঙ্গতি বিদ্যূৎ বিল করা, সময়মত বিদ্যূৎ বিল গ্রাহকদের হাতে না পৌছাঁনো, গ্রাহকদের সমস্যা সমাধান না করে কালক্ষেপন করা সহ নানাভাবে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী একাধিক বিদ্যূৎ গ্রাহক জানান। সরাইল পিডিবি অফিসে হয়রানির শিকার এক চিকিৎসক বিভাগের গ্রাহকসেবা নিয়ে
ভুক্তভোগী এক চিকিৎসক তাঁর ফেসবুক আইডিতে হয়রানির চিত্র তুলে ধরেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মো. মাহবুবুর রহমান বকুল নামে সেই
চিকিৎসক সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- “আমি মোঃ মাহবুবুর রহমান বকুল একজন সাধারন বিদ্যুত গ্রাহক। আমার মিটার নং ৮৫৭২৫৪ এবং হিসাব নং ২৬৯৩১। আমার বাড়ির বিদ্যুত সংযোগ হয় গত দুই মাস পূর্বে । কোন বিদ্যুত বিল না আসার কারনে বিদ্যুত বিল পাওয়ার জন্য আমি নিজেই বিদ্যুত
অফিসে যাই। সেদিন ছিল ১২-০৯-২০১৯। বিল পাওয়া এবং সরকারী টাকা জমা দেওয়ার আগ্রহ
সরাইল নির্বাহী প্রকৌশলী কে জানাইলে তিনি উপসহকারী প্রকৌশলীর সংগে কথা বলতে
বলেন। আমি উপসহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনের অফিস রুমের সামনে গেলে তালা
ঝুলানো দেখতে পাই, তাই আর বিল পাওয়া হল না।
পরবর্তীতে ১৭-০৯-২০১৯ পুনরায় বিদ্যুত বিল সংগ্রহ করতে গেলে কম্পিউটার রুমে
যোগাযোগ করতে বলা হয়। কম্পিউটার রুমে যোগাযোগ করে কম্পিউটারে আমার কোন বিল
পাওয়া গেল না। এবার আমাকে অত্র অফিসের আলমগীর সাহেবের সংগে যোগাযোগ করতে বলা
হয়। আলমগীর সাহেব কোথায় আছেন জানতে চাইলে কুমিল্লায় আছেন বলে জানানো হয়, আজকে
হবে না আগামীকাল হবে। অতএব এবারও ফেরৎ।
এখন কথা হল যারা চাকুরী করেন যারা সরকারী টাকা আদায় করা যাদের দাযিত্ব তাদের
গড়িমশি আর আমরা যারা সরকারের টাকা জমা দিয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে চাই আমরা
বিপাকে। যাহা-ই হউক এবার ৩য় দিনের পালা।
৩য় দিন ১৮-০৯-২০১৯ তারিখ বিদ্যুত অফিসে গিয়ে আলমগীর সাহেবের দেখা পেলাম তাঁকে
আমার বিদ্যুতের বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর রেজিষ্টার দেখে আমার একাউন্ট নম্বর
বাহির করে দেন এবং পুনরায় কম্পিউটার সেকশনে যেতে বলেন। পুনরায় কম্পিউটার
সেকশনে আমার হিসাব নম্বর ঢুকানোর পর দেখা গেল গত ফেব্রুয়ারি ২০১৮ হইতে আমার
বিল করা হচ্ছে ১৪৩০ ইউনিটের প্রায় ৬৮৩৯ টাকার মত। যাহার হিসাব নং ২৬৯৩১-A
কিন্তু মিটার নং নাই ঠিকানা ভূল।
এই ব্যাপারে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন সাহেবের সংগে কথা বলতে গেলে এই
ব্যাপারে কোন কথা বলবেন না এবং শোনবেন না বলে চেয়ার থেকে উঠে চলে যান।
ভাব-ভংগিতে মনে হল তিনি বিদ্যুত বিভাগে চাকুরী করেন না, সরাইল বিদ্যুত বিভাগের
মালিক এবং অংগভংগিতে একটু অন্যরকম ভাব সাব। আর কিছু বলা হল না।
আমার মত অনেক লোকজন দাঁড়িয়ে আছেন তিনি কাহারও সংগে কথা বলবেন না। মনে হল
চাকুরীর কোন বাধ্যবাধকতা উনার নাই। হেলাল উদ্দিন সাহেবের রুম থেকে বাহির হওয়ার
পর নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেবের সংগে দেখা, উনাকে অভিযোগ জানাতে চাইলে উনিও কোন
কথা শোনবেন না জানিয়ে দিলেন। না বলার ধরন অনেকটা অন্যরকম সে ব্যাখা না-ই বা
দিলাম।অবাক হলাম, মনে হল অনেক কিছু করার ছিল কিন্তু কিছুই করা হয়নি। কারণ
ভদ্রলোকেরা অনেক কিছু করতে পারেন না। হঠাৎ করে তিনি বলে উঠলেন আগামীকাল আপনার
মিটার prepaid করা হবে। অথচ প্রথম দিনে আমি তাঁহাকে prepaid মিটারের জন্য
অনুরোধ করলে তিনি নারাজ। গত ১৯-০৯-২০২৯ আমার prepaid মিটার সংযোগ দেওয়া হল।
এখন কথা হল- ১। আমার উপর চাপিয়ে দেওয়া ৪৩০ ইউনিটের পরিবর্তে ১৪৩০ ইউনিটের বিল
যাহার মূল্য ৬৮৩৯ টাকার কি হবে। টাকাটা কি আমাকে দিতে হবে? এটা কি ন্যায়?
২।আর যারা বিদ্যুত বিভাগে চাকুরী করে গ্রাহক সেবার নামে মানুষের সাথে খারাপ
ব্যবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে তাদের কি হবে ?”। হয়রানি বন্ধ করে গ্রাহকদের ন্যায্য সেবা নিশ্চিৎ করতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

April 2024
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
আরও পড়ুন