২রা অক্টোবর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

EN

মফস্বল সাংবাদিকতা, ধান্দাবাজ, অপসাংবাদিক ও সাংঘাতিক!!!,

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ , ২৭ জুলাই ২০২০, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

 

এম এ করিম সরাইল নিউজ ২৪.কমঃ

সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় এই পেশাকে। স্বাধীণ গণমাধ্যম নিপিড়ীত মানুষের কথা বলে, মানুষের মনের অনুভূতি ফুটিয়ে তোলে। দেশ ও জাতির কল্যাণে জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে কলম যুদ্ধ করেন প্রকৃত সাংবাদিকবৃন্দ। সাহসী ও সৎ সাংবাদিকদের আজও মানুষ মনের গহীন থেকে শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু অত্যন্ত নৈতিক ও চ্যালিঞ্জিং এই পেশাও আজ এক শ্রেণির অসাধু, দুর্নীতিপরায়ণ ও সুবিধাবাদী লোকদের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকতায় এই পেশা সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। পিআইবির ” সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ” কোর্স একাধিকবার সম্পন্ন করে মফস্বল সাংবাদিকতায় এক যুগের বেশি কাজ করার অভিজ্ঞতায় অনেকে সাংবাদিককে সাংঘাতিক বলতেও শোনেছি বহুবার। কিন্তু কেন সাংবাদিককে সাংঘাতিক বলবে এ কথা শোনে প্রথম প্রথম নিজের কাছে খারাপ লেগেছে। এর কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি নীরবে । অবশেষে খুঁজে পেলাম সাংবাদিককে কেন বলে সাংঘাতিক। কিছু কিছু নামধারী সাংবাদিক আছেন যারা এই মহৎ পেশাকে নানাভাবে কুলষিত করে তাদের ব্যক্তিগত রুটি রুজির পথকে সুগম করেন। তুচ্ছ ঘটনাকে পুজিঁ করে তারা নানাভাবে ঘটনা প্রবাহে প্রলুব্ধ করে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা অর্জন করেন। আবার একশ্রেণির নামধারী সাংবাদিক রয়েছেন যারা নামে বেনামে অখ্যাত বিভিন্ন গণ মাধ্যমের একটি কার্ড কিছু টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। এই কার্ডকে পুঁজি করে উপজেলা পর্যায়ে থানা পুলিশের সাথে সখ্যতা গড়ার চেষ্টা করে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থানায় মামলা করানো, এফআইআর করে দেওয়ার নামে বিভিন্ন পক্ষ থেকে দালালি করে আর্থিক সুবিধা অর্জন করেন। এছাড়া নামধারী ঐ শ্রেণির সাংবাদিক গোষ্ঠীর ২/৩জনের গ্রুপ মিলে উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন সরকারি অফিসের অফিসারদের সাথে প্রথমে সখ্যতা গড়ে সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করেন। আর্থিক বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার গড়মিল হলেই দুই কলম লিখে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নিজের অপসাংবাদিকতা জাহিরের চেষ্টা করেন। এছাড়া এক শ্রেণির উঠতি বয়সের তরুন মোটর সাইকেলের সামনে প্রেস লিখে নিরাপদে মোটর সাইকেল চালাতে অখ্যাত বিভিন্ন মিডিয়ার একটি কার্ড কিছু টাকার বিনিময়ে এনে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দাফিয়ে বেড়ান নির্ভয়ে। এদিকে মফস্বল এলাকায় বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে এক শ্রেণির সুবিধাবাদী লোক নিজেকে উচ্চ শিক্ষিত ও ভাল পত্রিকার সাংবাদিক দাবি করে আত্ব-অহংকারে মেতে উঠেন। এরা লেখনির দম্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ওসিসহ উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অফিসারদের সাথে গড়ে তুলেন সখ্যতা। ব্যস্ত থাকেন নিজের আখের গোছাতে ও আর্থিক সুবিধা অর্জনের ধান্দায়। সুবিধা অর্জন করতে পারলে নির্বাহী অফিসার, ওসি, অমুক অফিসার, তমুক অফিসার জিন্দাবাদ বলে পজিটিভ সংবাদ প্রচার করতে থাকেন দেদারছে। আর আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন সরকারি সভা সেনিনারে দাওয়াতে সামান্য গন্ডগোল হলেই নির্বাহী অফিসার, ওসি, অমুক অফিসার, তমুক অফিসারদের নেগেটিভ তথ্য নিয়ে প্রচার হতে থাকেন সংবাদ। উদ্দেশ্য থাকে বদলি হউক সংশ্লিষ্ট অফিসার নতুবা কম্প্রমাইজড করুক তাদের সাথে। আত্ব্বীয়-স্বজন ও নিজের ক্যারিয়ার বিবেচনায় মান সম্মান বজায় রাখতে ও চাকরির স্বার্থে তখন ঐ শ্রেণির সাংবাদিকদের সাথে বাধ্য হয়েই কম্প্রমাইজড করে চলতে হয় নির্বাহী অফিসার, ওসিসহ সরকারি অন্যান্য অফিসারদের। এতে করে মুখে কিছু না বললেও সৎ অফিসারগণ মনে মনে ঘৃনা করেন ধান্দাবাজ ঐ শ্রেণির দাম্বিক সাংবাদিকদের। অন্যদিকে অসৎ ও দুর্নীতিবাজ অফিসার যারা তারা ঐ শ্রেণির দাম্বিক সাংবাদিকদের সুবিধা দিয়ে নিজেদের আখের গোজাঁতে বরং খুশিই থাকেন। আর সুবিধাবাদী ঐ দাম্বিক সাংবাদিক শ্রেণি বিভিন্ন সংগঠনকে পুঁজি করে দাফিয়ে বেড়ান বিভিন্ন অফিসে। আমি অমুক পত্রিকার সাংবাদিক, আমার এটা আছে, সেটা আছে, আমাদের সাথে এই মিডিয়া সেই মিডিয়া অমুক আছে তমুক আছে বলে অফিসারদের প্রশংসা কুড়াঁতেও ব্যস্ত থাকেন সারাক্ষণ। কিন্তু মাঝে মাঝে নিজ সংগঠনের সাংবাদিকদের মাঝেই স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরী হয়ে একাধিক সংগঠনের সৃষ্টি হয়। এর প্রধান ও অন্যতম কারন হচ্ছে একটি সংগঠন সৃষ্টি করতে পারলে সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি ও সেক্রেটারী হিসেবে মফস্বল এলাকায় উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও ও ওসিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অফিসারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলা যায় আর উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটিসহ বিভিন্ন সভা -সেমিনারে গলা ফাটিয়ে নীতিবাণ বক্তব্য দেওয়া যায়। ফলে সকলের কাছে ভাল সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি পেয়ে নিজের আখের গোছানোর সুযোগ হয়। এই ধরণের হীণ প্রবণতায় ও সংগঠনের পদস্থ সাংবাদিকদের আত্ব-অহমিকায় উপজেলা পর্যায়ে নামে বেনামে গড়ে উঠছে একাধিক সাংবাদিক সংগঠন। আর এই সংগঠনের সাংবাদিকদের মাঝে চলছে নামে বেনামে সংবাদ প্রচারের প্রতিযোগিতা। নিজ সংগঠনের সদস্য বাড়াতে চলছে সাংবাদিক বানানোর প্রতিযোগিতা। সাংবাদিক হলে দাম পাওয়া যায় আর নানা সুবিধা পাওয়া যায় এই প্রবণতা থেকে যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক ছুঁটছে সবাই সাংবাদিক হতে। জার্নালিজমে ডিগ্রী ধারীরা প্রকৃত সাংবাদিক হলেও মফস্বল সাংবাদিকতায় কোনো যোগ্যতার বালায় না থাকায় কষ্ট করে কিছু টাকার বিনিময়ে অখ্যাত একটি কার্ড সংগ্রহ করতে পারলেই ব্যস হয়ে গেল সাংবাদিক। একাধিক সংগঠন থাকায় সহজেই যুক্ত হয়ে যান সাংবাদিক সংগঠনে। ২/৩জনের গ্রুপ নিয়ে দাফিয়ে বেড়ান সাংবাদিকতার নামে নানা ধান্দায়। কিন্তু এলাকার সাধারণ মানুষ যখন দেখেন যার ইতিহাসের সাথে সাংবাদিকতার বাস্তবতার লেস মাত্র নেই আর তিনিই সাংবাদিক পরিচয়ে দাফিয়ে বেড়ান, অফিসারদের সাথে সখ্যতা করে অনৈতিক সুবিধা অর্জন করেন, নিজের শরীরের হাজারো দাগ থাকা সত্ত্বেও অন্যের দাগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, লেখনীর জোড় থাকুক আর না থাকুক, কথা বলার দক্ষতা থাকুক আর না থাকুক, শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক সমাজে যখন বড় গলায় তারাই নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে নানা অনৈতিক সুবিধা হাসিলের অপচেষ্টা করেন তখনই সাধারণ মানুষ সাংবাদিক নামের বিকৃত শব্দ হিসেবে সাংঘাতিক বলে গালমন্দ করেন। মফস্বল সাংবাদিকতায় কিছু উচ্চ শিক্ষিত ও ভাল মিডিয়ার সাংবাদিকদের এই পেশায় আত্ব অহংকার, অন্যকে দাবিয়ে রাখার নানা কুটুচালসহ নানা অনৈতিক ধান্দার কারনে এবং শিক্ষার বালায় নেই, লেখনির যোগ্যতা নেই, প্রকৃত সাংবাদিকতা করার যোগ্যতা নেই কিছু লোক অখ্যাত মিডিয়ার কার্ড টাকার বিনিময়ে কিনে এনে নামধারী সাংবাদিক দাবি করায় মফস্বল সাংবাদিকতা এখন সাংঘাতিক প্রশ্নের মুখে।
“উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে কাউকে ঘায়েল করার জন্য নয়, সাংবাদিকতার পরিচয়ে সম্পর্ক স্থাপন করে অনৈতিক পন্থায় আর্থিক সুবিধা অর্জন নয়, প্রকৃত সাংবাদিকের কলম চলুক অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পক্ষে” -যারাএই ব্রুত নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারবেন কেবল তারাই আসুক সাংবাদিকতা নামের এই মহান পেশায়, যাদের দ্বারা এই পেশার বদনাম সৃষ্টি হয়, সাংবাদিকদেরকে সাংঘাতিক বলা শোনতে হয় তাদেরকে অপসাংবাদিক হিসেবে সামাজিকভাবে চিহ্নিত করে বয়কট করা হউক, প্রকৃত ও নীতিবাণ সাংবাদিকদের সমাজে জয় হউক এমনটাই হউক সকলের প্রত্যাশা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

October 2023
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
আরও পড়ুন