১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

EN

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বিজয়ী, ভোটের হার ১৬.১০%

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ , ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বিজয়ী, ভোটের হার ১৬.১০%

এম এ করিম সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতাঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে উপনির্বাচনে কলার ছড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া ৪৪ হাজার ৯শত ১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হামিদ ভাসানী পেয়েছেন ৯ হাজার ৬শত ৩৫ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ মটর গাড়ি প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ২ শত ৬৯ ভোট পেয়েছেন। জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জুয়েল পেয়েছেন ১ হাজার ৮শত ১৮ভোট । নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানো স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪শত ৮৪ ভোট।
উপস্থিত ভোটারদের শতকরা হার ১৬.১০%।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২( সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহন চলাকালে কোথাও কোন বিশৃংখলার খবর পাওয়া যায়নি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩লাখ ৭৩ হাজার ৩১৯ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ছিল ১৩২টি। এসকল কেন্দ্রে ১ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য, র‍্যাবের ১০টি টিম, ৪ প্লাটুন বিজিবি এবং ১ হাজার ৫৮৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ১৭ জন ফোর্স মোতায়েন ছিল। এদের মধ্যে ১২ জন আনসার, দুইজন গ্রাম পুলিশ ও ৩ জন পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন। সরাইল আশুগঞ্জ ২ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একজন করে মোট ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ২ জন ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোটদানে ভোটারদের মাঝে তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না। ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিৎ করতে কোথাও মাইকিং করার খবরও পাওয়া গেছে।
সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও দুই উপজেলার বেশিরভাগ ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের তেমন কোনো লাইন দেখা যায়নি। বিচ্ছিন্নভাবে ভোটারগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন তবে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।

বিএনপির সাবেক ৫ বারের এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ থেকে পদ ত্যাগ করলে এ আসনটি শূন্য ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। পরে উপনির্বাচনের তফছিল ঘোষনা করা হয়।
আসনটিতে আওয়ামী লীগ কোনো দলীয় প্রার্থী না দিয়ে আসনটি নির্বাচনের জন্য উন্মুক্ত ঘোষনা করে। এতে মোট ১৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দেন। এদের মধ্যে সাবেক এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বিএনপি দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়পত্র জমা দেওয়ায় বিএনপি দল থেকে তাঁকে বহিঃস্কার করা হয়। ১৩জন প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন পত্র যাছাই-বাছাই শেষে ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষনা করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের তিন হেভিওয়েট নেতা নানা কারন দেখিয়ে নির্বাচন থেকে তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। বাকী ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন স্বতন্ত্র, ১জন জাতীয় পার্টি ও ১ জন জাকের পার্টির প্রার্থীর নামে প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়া হয়। পরে আপেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক দুই বারের এমপি এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা বিভিন্ন কারন দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষনা দেন।
পরবর্তীতে ঘোষিত তফছিল অনুযায়ী নির্বাচনের দিনকে সামনে রেখে বাকী ৪ জন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকগণ প্রচারনা শুরু করেন। নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসার সাথে সাথে প্রার্থীদের প্রচারনায় নাটকীয় মোড় নিতে দেখা যায়। গোলাপ ফুল প্রতীকের প্রার্থীর তেমন কোনো প্রচারনা দেখা না গেলেও কলার ছড়ি, মটরগাড়ি ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও সমর্থকদের ব্যপক প্রচারনা শুরু হয়। বিএনপি থেকে বহিঃস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার কলার ছড়ি প্রতীকের সমর্থনে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ও জনপ্রতিনিধিসহ কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের দলীয় নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহনে উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া সমর্থক গোষ্ঠীর ব্যানারে দফায় দফায় কলার ছড়ি প্রতীকের নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় উপ নির্বাচনের প্রচারনা নতুন মোড় ধারন করে।

এক দিকে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কলার ছড়ি প্রতীকে ভোট দিতে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা-কর্মী ও উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া সমর্থক গোষ্ঠীর লোকজনের দফায় দফায় মতবিনিময় সভা অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ স্থানীয় উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের বিভিন্ন মাধ্যমে উক্ত উপনির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকার বিষয়ে অবগত করাসহ ভোট কেন্দ্রে দলীয় লোকজন যেন ভোট দিতে না যান এ ব্যপারে উদ্বুদ্ধ করতে দেখা যায়।

এছাড়া বিএনপি থেকে বহিঃস্কৃত কলার ছড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক ৫ বারের এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার পক্ষে কাজ করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান অনেক নেতাকে দল থেকে দফায় দহায় বহিস্কার করা হয়।

এদিকে বিএনপি থেকে বহিঃস্কৃত মটরগাড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ এর প্রচারনা হঠাৎ থমকে যেতে দেখা যায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ নিখোঁজ কিংবা আত্ব গোপনে এমন খবরও প্রকাশিত হয়।
উল্লেখ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮ এ বিএনপির দলীয় প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া এ আসনে চট্রগ্রাম বিভাগে বিএনপির একমাত্র এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ১১ ডিসেম্বর উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া দলীয় সিদ্ধান্তে জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। ১ ফেব্রুয়ারি এ আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচন স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহন করে তিনি ফের ষষ্ঠবারের মত এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি প্রথমবার স্বতন্ত্র থেকে ও পরে বিএনপি দল থেকে ৪ বারসহ মোট ৫ বার এই আসনে এমপি ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

April 2024
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
আরও পড়ুন