২২শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং | ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

EN

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপির মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত, সরাইল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মহাসমাবেশে সক্রিয় অংশগ্রহন

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ , ৯ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 weeks আগে

1641670298171logo

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপির মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত, সরাইল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মহাসমাবেশে সক্রিয় অংশগ্রহন

এম এ করিম সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতাঃ

পুলিশি বাঁধা ও ১৪৪ ধারাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার (৮ জানুয়ারী) বিকালে জেলা শহরের বিরাসার-লালপুর সড়কের বটতলী নামক স্থানে বিএনপির মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন জেলা শহরের ফুলবাড়িয়া কনভেনশন হলের সামনে বিএনপির মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব ঘোষনা থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাসমাবেশস্থল ও পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি শহরে প্রবেশের প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট ও নিশ্চিদ্র বেস্টনী থাকায় কৌশলগত কারনে স্থান পরিবর্তন করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা বটতলীতে মহাসমাবেশ পালন করেন বলে দলীয় সূত্র জানায়।
মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলা শহর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। এদিকে পূর্ব ঘোষিত বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দিতে
সকাল থেকেই জেলা বিএনপি ও জেলার অধীনস্থ বিভিন্ন উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল ও অন্যান অঙ্গসংগঠনের নেতা- কর্মীরা জেলা শহরের আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ হতে থাকে।
এদিকে জেলার অন্যান্য উপজেলার দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সরাইল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আনিছুল ইসলাম ঠাকুর ও সদস্য সচিব এডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপুর নেতৃত্বে সরাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা স্বতঃ স্ফূর্তভাবে উক্ত মহাসমাবেশে যোগদান করেন।
মহাসমাবেশ যোগদান করতে কেন্দ্র থেকে আসা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আশুগঞ্জ উজানভাটি হোটেল এলাকায় পুলিশি বাঁধার নুখে পড়লেও বিকালের দিকে নেতৃবৃন্দ উক্ত মহাসমাবেশে যোগদান করেন।

এদিকে মহাসমাবেশের আগের দিন রাতে জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ জিল্লুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে আটক করেন পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহবায়ক কমিটির সম্মানিত সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি আয়োজিত উক্ত মহাসমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২( সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি, কসবা- আখাউড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা- কর্মীদের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ও ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবির আহমেদ ভূইঁয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, সাবেক প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এ কে একরামুজ্জামান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শেখ মোহাম্মদ শামিম, বিএনপি নেতা আক্তার হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপসহ দলীয় নেতা- কর্মীরা উক্ত মহাসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি যে আলোচনা শুরু করছেন- সেটি আগামী নির্বাচনে ভোট চুরির একটি প্রক্রিয়ার অংশ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসছে। যারা ভোট চুরি, গুম-খুনের সাথে জড়িত,গনতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা হরনের সঙ্গে জড়িত তারা সবাই দেশে-বিদেশে পর্যবেক্ষনে আছেন।
তিনি আরও বলেন, যারা ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ তে ভোট চুরি করেছে- সেই চক্র আগামী নির্বাচনে ভোট কীভাবে চুরি করবে সংলাপের নামে সেই আলোচনা চলছে। এই চোরদের সাথে আরও কিছু ছেচড়া চোরও আছে। দেশের মানুষ নিবিড়ভাবে এই চোরদের পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি আরও বলেন, চোরদের বলতে চাই- সেই পথ থেকে সরে আসুন। বাংলাদেশ জেগে উঠেছে। কথায় আছে চোরের দশদিন আর গৃহস্থের একদিন। এই দশদিন পার হয়ে গেছে। এখন চোর ধরতে হবে। যেখানেই এই চোরদের দেখবেন- জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। এদের বলবেন তুই চোর- ভোটচোর। এদেরকে সামাজিকভেবে বয়কট করতে হবে। তিনি আরো বলেন- দেশকে মুক্ত করতে জনগণ প্রস্তুতি নিয়েছে। এই জোয়ারে বিএনপি’র নেতাকর্মীদেরকে প্রতিটি অঞ্চল, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে জনগনকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলন করতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি আয়োজিত মহাসমাবেশ থেকেই সরকার পতন আন্দোলনের শুরু বলে ঘোষনা দিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুনিন ফারহানা এমপি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

জানুয়ারি ২০২২
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ডিসেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
আরও পড়ুন