৩১শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

EN

উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার কলার ছড়ি প্রতীকের সমর্থনে ব্যপক শোডাউন ও গণসংযোগ

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ , ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 week আগে

উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার কলার ছড়ি প্রতীকের সমর্থনে ব্যপক শোডাউন ও গণসংযোগ

এম এ করিম সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতাঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের ৫ বারের সাবেক এমপি ও আসন্ন উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার কলার ছড়ি প্রতীকের সমর্থনে ব্যপক গণসংযোগ চলছে। মতবিনিময় সভা, সমাবেশ ও শোডাউন মিছিল করে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় নেতা, কর্মী ও সমর্থকগণ।
সাবেক এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার একমাত্র পুত্র মাইনুল হাসান তুষার এর নেতৃত্বে ইতিমধ্যে অরুয়াইল বাজারসহ পাকশিমুল, অরুয়াইল ও চুন্টা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে কলার ছড়ি প্রতীকের সমর্থনে সভা, সমাবেশ ও শোডাউন মিছিল করেছেন। পর্যায়ক্রমে সরাইল ও আশুগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার সর্বত্রই এ গণ সংযোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এরই মধ্যে উপজেলা পরিষদের ২ বারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব রফিক উদ্দিন ঠাকুরসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ এর বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরাও কলার ছড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার সমর্থনে মতবিনিময় সভা ও মিছিল করেছেন।
আসন্ন উপনির্বাচনে এলাকার সর্বস্তরের জনগণের রায়ে শতভাগ জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কলার ছড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক ৫ বারের এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।

উল্লেখ্য বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া ক্যারিয়ারের শুরুতে একই আসন থেকে হুক্কা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জনতার ভোটে প্রথমবারের মত এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ব্যপক জনপ্রিয়তা নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর হাত ধরে বিএনপির দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হউন। সেই থেকে নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি দলীয় অসংখ্য নেতা-কর্মী সৃষ্টি করাসহ বর্নাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে সফলতার সহিত দায়িত্ব পালন করেন। এরই মধ্যে বিএনপি দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ৩ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন ৪ দলীয় জোটের শরীক দল বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান আল্লামা মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর দলের বিপুল বিজয়ে ও দলের প্রতি ত্যাগ, আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে তিনি একাধিক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন।
পরবর্তীতে ওয়ান ইলেভেন খ্যাত দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়েও তিনি ক্লিন ইমেজ নিয়ে দলীয় দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে একই আসন থেকে চট্রগ্রাম বিভাগ থেকে তিনি বিএনপি দলের একমাত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হউন। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর দলীয় রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে সারাদেশের ৭ জন এমপির সাথে একযোগে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে এই আসনটি শূণ্য ঘোষনা করে উপনির্বাচনের তফছিল ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন।
এ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীকে কোনো প্রার্থী মনোনীত না করে নির্বাচনের জন্য আসনটি উন্মুক্ত করে দেয়।

এলাকার জনগণের চাওয়া-পাওয়ার কথা বিবেচনা করে ও নিজের মনে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কথা জানিয়ে উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া প্রথমে দল থেকে পদত্যাগ করেন। পরে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করতে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করেন । এরই মধ্যে বিএনপি দল থেকে তাঁকে বহিঃস্কার করা হয়।

১৩ জন প্রার্থী এই আসন থেকে মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করলেও ১ জন প্রার্থী মারা যান। যাছাই-বাছাই শেষে ৮জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র উত্তোলণকারী আওয়ামী লীগ দলীয় তিন নেতা তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। বাকী ৫ জন প্রার্থীর নামে প্রতীক বরাদ্ধ করা হয়। এর ২দিন পর স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক দুই বারের এমপি এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা স্বল্প সময়ে জনগণের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয় জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষনা দেন।

নির্বাচনে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী ৪ জন প্রার্থীগণ হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক ৫ বারের এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া (প্রতীক কলার ছড়ি), জাতীয় পার্টি মনোননীত প্রার্থী এডভোকেট আবদুল হামিদ ভাসানী (প্রতীক লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো.আবু আসিফ আহমেদ ( প্রতীক মোটরগাড়ি) ও জাকের পার্টি মনোনীত প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জুয়েল ( প্রতীক গোলাপ ফুল)।

ঘোষিত তফছিল অনুযায়ী আগামী ১ ফেব্রুয়ারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

January 2023
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
আরও পড়ুন