২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

EN

আফগানিস্তানে মাদরাসায় বিমান হামলায় নিহত ৭০ : নিহতদের বেশির ভাগই শিশু

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১১:৩৪ অপরাহ্ণ , ৪ এপ্রিল ২০১৮, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 years আগে

ডেস্ক রিপোর্ট:

আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশে একটি মাদরাসার মাহফিলে সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই ওই মাদরাসার বালক বয়সী ছাত্র। তালেবান কমান্ডারদের জমায়েত সন্দেহে আফগান সামরিক বাহিনী সেখানে হামলা চালায় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সোমবার কুন্দুজের দাশত ই আর্চি জেলার একটি মাদরাসায় কয়েকটি হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল হামিদ হামিদি দাবি করেছেন, তালেবান যোদ্ধারা একটি অভিযানের প্রস্তুতি নিতে ওই মাদরাসাটিতে জড়ো হয়েছিল, তাদের লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের কোয়েটা শহরভিত্তিক তালেবানের নেতৃত্ব পরিষদের এক প্রতিনিধি ওই মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করার সময় সেখানে বিমান হামলা চালানো হয় বলেও তিনি দাবি করেন। হামলায় বেসামরিক হতাহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই বলে জানান।
আফগানিস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্ততপক্ষে ২৫ তালেবান হতাহত হয়েছে। কিন্তু কুন্দুজ শহরের এক হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, ৫০ জনেরও বেশি গুরুতর আহত ব্যক্তিকে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, হতাহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও বেসামরিক ব্যক্তিরা রয়েছেন। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ রাদমানিশ জানান, ওই বিমান হামলায় ৩০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ৯ জনই ছিলেন কমান্ডার পর্যায়ের। স্থানীয় একটি সূত্র এ হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ৭০ জন বলে জানিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তবে স্থানীয় হাসপাতালে হামলায় আহত বিপুল শিশুকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। সেখানে বেসামরিক লোকজনও ছিল।
দাশত ই আর্চি জেলাটি তালবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে কোনো যোদ্ধা ছিল না, শুধু বেসামরিকরা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা। এক বিবৃতিতে তালেবান জানিয়েছে, হামলায় ১৫০ জন মাদরাসাছাত্র ও বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলায় একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক বেসামরিক হতাহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ ইসহাক জানিয়েছেন, ‘তারা একটি বোমা ফেলেছে’ বলে চিৎকার করছিল কয়েকটি শিশু, কিন্তু বড়রা তাদের শান্ত থাকতে বলেন এবং ‘কিছুই হবে না’ বলে আশ্বাস দেন; আর তখনই বোমাগুলো মসজিদে আঘাত করে। মাদরাসাটিতে একটি সনদ প্রধান অনুষ্ঠান চলছিল এবং সেখানে উপস্থিতদের মধ্যে বেসামরিক, মাদরাসা ছাত্র ও তালেবান যোদ্ধারা ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই এলাকায় মার্কিন বাহিনী কোনো আক্রমণ পরিচালনা করেনি বলে দাবি করেছেন আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর মুখপাত্র লিসা গার্সিয়া।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মাদরাসাটিতে কুরআন হিফজ সম্পন্নকারী বালকদের মধ্যে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ওই বালকদের অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যরাও প্রচুর সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। বিমান হামলায় এই বেসামরিক লোকেরাই হতাহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আবদুল হক বলেছেন, অনুষ্ঠানে সনদ গ্রহণের জন্য উপস্থিত বালকদের বেশির ভাগেরই বয়স ছিল ১১ থেকে ১২ বছর। তিনি বলেন, সন্তানদের মৃত্যুতে হাসপাতালের বাইরে বিলাপ করছিলেন মায়েরা। সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স, নয়াদিগন্ত

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

May 2024
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
আরও পড়ুন