১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

EN

সরাইলে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অভিযুক্ত নেতার নিন্দা ও প্রতিবাদ

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ , ৩১ মে ২০২০, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে

ppppppppppppp

এম এ করিম সরাইল নিউজ ২৪.কম:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও অরুয়াইল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: আবু তালেব এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, কিছু সংখ্যক নেতা ও ব্যবসায়ীবৃন্দ। এতে ত্রাণের টাকা আত্বসাৎ, স্থানীয় ব্যবসায়ীবৃন্দের নিকট থেকে চাঁদা উত্তোলনসহ নানা অভিযোগ তুলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে হাজী আবু তালেবের অপসারণ দাবি করেছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো: মোশাররফ হোসেন ভ্ূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মো: কুতুব উদ্দিন ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মো: মিজানুর রহমান, বাজার কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও ইউপি যুবলীগের আহ্বায়ক মো: বোরহান উদ্দিন, বণিক সমিতির সভাপতি ক্ষিরোদ ঘোষ, যুবলীগের সাবেক সম্পাদক জাবেদ আল হাসান, ইউপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জিএম কাপ্তান, ইউপি জাতীয় যুবসংহতির সভাপতি গাজী মো: দুলালসহ দেড় শত লোক উক্ত অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যপারে লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষরকৃত অরুয়াইল ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আল হাসানসহ একাধিক লোকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তারা বলেন, বাজার কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও ইউপি যুবলীগের আহ্বায়ক মো: বোরহান উদ্দিন এর নেতৃত্বে একাধিক ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অরুয়াইর বাজারের বিভিন্ন দোকানের সিলগালা খোলা ও নতুন করে বাজারের বণিক সমিতি গঠনের কথা বলে আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে তারা এর অপব্যবহার করেছেন।
অভিযোগের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ:
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আবু তালেব। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া। একটি কুচক্রী মহল নেতা হওয়ার জন্য মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য লিখে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে উক্ত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
হিংসা আর ষড়যন্ত্রের শিকার হাজি আবু তালেব:
অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অরুয়াইল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবু তালেব হিংসা আর ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আবু তালেব ও তাঁর পরিবারের লোকজন। আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আবু তালেবের পারিবারিক লোকজন সরাইল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, হাজী আবু তালেব একজন সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় তাঁর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তাঁর সুনাম ও সাফল্যে ঈর্শ্বান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহল তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
ত্রাণের টাকা আতœসাৎ, ঈদে পুলিশ ক্যাম্পে টাকা দেয়ার কথা বলে বাজার থেকে বিশাল অংকের টাকা উত্তোলন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা বানোয়াট, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে হাজি আবু তালেব আরও বলেন, একটি কুচক্রী মহল সবসময়ই আমার বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশে ছিলাম, আমি মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম আমাদের এলাকা করোনা মুক্ত থাকুক। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখা কি আমার অপরাধ? বিভিন্ন সময়ে এসিল্যান্ড স্যার আমাদের এলাকায় এলে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে আমিও পাশে থেকেছি। লক ডাউনের মধ্যে ঈদের আগে বাজারে প্রচুর লোকের সমাগম হতে থাকলে এসিল্যান্ড স্যার, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সম্মিলিত সভায় কাপড়-চোপড় ও প্রসাধনী সামগ্রীর দোকান সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিলগালা সংক্রান্ত সভাটি অনুষ্ঠিত হয় অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদে। অথচ একটি কুচক্রী মহল প্রচার করতে থাকে যে দোকানসমুহ আমার প্ররোচনায় সিলগালা করা হয়। এসব বলে তারা বাজারের একটি ব্যবসায়ী অংশকে আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলে। সিলগালা করার আমি কে! আর একজন সাধারণ মানুষও বুঝবে সরকারি সিলগালা সরকারি নির্দেশ ও সরকারি লোক ছাড়া খোলা যায়না। এখানে আমার কি ভুমিকা থাকতে পারে। মাননীয়া এসি ল্যান্ড স্যারই এসবের স্বাক্ষী আছেন। ত্রাণ আতœসাৎ ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে হাজি আবু তালেব বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গত ৫ এপ্রিল অরুয়াইলে অসহায় ও কর্মহীন ৩শত দুঃস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের প্রায় সকল নেতারাই উপস্থিত থেকে নিজ হাতে ত্রাণও বিতরণ করেন যা বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন,অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যারা নিজ হাতে ত্রান বিতরণ করেছেন ও যাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে, তারাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, কোনো ত্রাণই বিতরণ করা হয়নি! এ থেকেই বুঝা যায় এটা আমার বিরুদ্ধে একটি জঘন্য ষড়যন্ত্র। তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ত্রাণ বিতরণ সংক্রান্ত যাবতীয় হিসাবপত্র তিনি দিতে পারবেন। তিনি আরও বলেন এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সর্বমোট ৯৬৭৫০/=(ছিয়াঁ নব্বই হাজার সাতশত পঞ্চাশ) টাকা খরচ হয় যার মধ্যে ৪৯০০০/=(ঊনপঞ্চাশ হাজার) টাকা কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও অন্যান্য মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং বাকি ৪৭৭৫০/=(সাত চল্লিশ হাজার সাত শত পঞ্চাশ) টাকা আমি ব্যক্তিগতভাবে দেই। তিনি আরও বলেন.অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হলো অভিযোগকারীরা তাদের অভিযোগে বলছে যে ত্রাণ দেয়া হয়নি এবং সংগৃহীত টাকা আতœসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছে অনেক টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলতে চাই, একটি পয়সাও অনিয়ম করা হয়নি। বাজারের ব্যবসায়ীরা আছেন তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করলেই এ ব্যাপারে সত্যটা জানা যাবে। তিনি এ বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবী জানান। তিনি আরও বলেন, এলাকার মানুষ জানে কারা নিরবে চাঁদাবাজি করে, কারা অল্পদিনেই আংগুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে আর গুঠিবাজ,ধান্ধাবাজ, মামলাবাজ, ভুমিদস্যু শব্দগুলো কাদের সাথে ওতোপ্রোতভাবে মিশে আছে।
তিনি বলেন, একটি পক্ষ ওঠেপড়ে লেগেছে আমার বিরুদ্ধে। তারা তাদের মনগড়া, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এতে সামাজিকভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ তদন্ত চাই। তদন্তে দোষী সাব্যস্থ হলে শাস্তি মাথা পেতে নিবো। অন্যথায় যারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করাসহ আমি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করব।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

মে ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল   জুন »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
আরও পড়ুন