২রা জুন, ২০২০ ইং | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

EN

গোপনীয়তা রেখে চলছে বিএনপির প্রার্থী বাছাই

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ , ৩ জুন ২০১৭, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

দৈনিক করতোয়া রিপোর্ট: বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা কার্যক্রম শুরু করেছে দলটি। নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে দলের সর্বশেষ সাংগঠনিক অবস্থা জানতে ইতিমধ্যে ৫১টি টিমের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বিএনপি। এছাড়া আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অত্যন্ত গোপনে ৩০০ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও শুরু করেছে দলটি। বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ‘ভিশন-২০৩০’ রূপকল্প ঘোষণার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে। সেজন্য আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে এখন থেকেই সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নেতারা। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অনেক সাবেক নেতাও এমপি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলটির হাই কমান্ড থেকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক নির্দেশনা পাওয়ার পরই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন তারা। বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক সাবেক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায় করাই এখন বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ২০ দলীয় জোটকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক জোট ও দলগুলোর সাথেও আলোচনা করবে বিএনপি। আর ঈদুল ফিতরের পর নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখাও ঘোষণা করবে দলটি। এই ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দাবি আদায়ে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে আন্দোলনের ব্যাপারটিও বিবেচনায় রাখছে বিএনপি। তবে পবিত্র রমজান মাসে এখন ঘরোয়া রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে দলটি। ইফতারকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে বিএনপি। কয়েকটি ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশে গঠিত একাধিক টিম কাজ করছে। টিমের সদস্যরা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন নিজেও তৃণমূলে তার বিশ্বস্ত নেতাকর্মীর মাধ্যমে বিভাগ ও জেলাভিত্তিক আসনগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তবে আগামীতে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাদের ভূমিকা বিবেচনায় নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা-হামলা, জেল-জুলুমের শিকার হওয়া নেতারা যেমন এগিয়ে থাকবেন, তেমনি বিতর্কিত, নিষ্ক্রিয় ও অজনপ্রিয় নেতারা বাদ পড়বেন। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ায় অনেক তরুণ নেতা বিএনপির হাইকমান্ডের নজর কাড়তে সক্ষম হন। ভবিষ্যতে দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া যায়- এমন মেধাবী, তরুণ ও মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয় সাবেক ছাত্রনেতাদের একটি তালিকাও তৈরি করছে হাইকমান্ড। বিএনপির ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়নেও এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছে দলটি।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপি একাধিকবার সরকার পরিচালনাকারী দল। সেজন্য নির্বাচনের জন্য আমাদের আলাদা প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। আমরা নির্বাচনের জন্য সবসময় প্রস্তুত। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। ৫১টি সাংগঠনিক টিমের মাধ্যমে ইতিমধ্যে দলের সর্বশেষ সাংগঠনিক অবস্থার খোঁজ-খবরও নেয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে- দলের অবস্থান ভালো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড রয়েছে, তারাই মনোনয়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। ছাত্রদলের সাবেক নেতারা যোগ্য ও নিজ এলাকায় জনপ্রিয় হলে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বোর্ড নিশ্চয় তাদের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রদলের অনেক সাবেক নেতা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। অতীতে সংগঠনটির অনেক সাবেক নেতা মনোনয়ন পাওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠছেন তারা। এ জন্য সাবেক এসব ছাত্রনেতা নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন। নিজ নিজ আসনে গিয়ে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়াও ধর্মীয় উৎসবে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার-ব্যানারের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনেকে এবারের রমজানে নিজ এলাকায় ইফতার মাহফিলেরও আয়োজন করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল-২ ও ৫, কামরুজ্জামান রতন মুন্সিগঞ্জ-৩, আজিজুল বারী হেলাল ঢাকা-১৮ এবং খুলনা-২, ৩ ও ৪, শহিদুল ইসলাম বাবুল ফরিদপুর-২, শফিউল বারী বাবু লক্ষ্মীপুর-৪, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল নরসিংদী-৪, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু ঝিনাইদহ-১, আমিরুল ইসলাম আলিম সিরাজগঞ্জ-৫, আবদুল মতিন নওগাঁ-৪, আমিরুজ্জামান খান শিমুল ঝিনাইদহ-৩, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন মাদারীপুর-৩, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নেত্রকোনা-১ এবং শাম্মী আক্তার হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জানতে চাইলে কায়সার কামাল বলেন, ২০০৮ সালেও নেত্রকোনা-১ আসন থেকে নির্বাচন করেছি। সুতরাং এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের জুলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও বিগত স্থানীয় নির্বাচনেও আমরা পাশ করেছি। আমার এলাকার ভোটাররা আগামী জাতীয় নির্বাচনেও ইনশাল্লাহ বিএনপির পক্ষেই ভোট দিবে। তারা প্রস্তুত, শুধু অনুকূল পরিবেশ চায়। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে।

আব্দুল মতিন বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন ভিশন-২০৩০-তে নতুন ধারার রাজনীতি ও সরকার গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা তরুণ নেতাদের আরও উদ্দীপ্ত করেছে। এলাকার জনগণ আমাকে চায়। আমিও তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তরুণদের অগ্রাধিকার দেবেন বলে প্রত্যাশা তার।

আমিরুজ্জামান খান শিমুল বলেন, আমি ১০ বছর ধরে এলাকায় গণসংযোগ করছি। আশা করি, দেশনেত্রী ঝিনাইদহ-৩ আসন থেকে আমাকে মনোনয়ন দেবেন।

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ মুন্সিগঞ্জ-২, সাবেক ছাত্রনেতা হাসান মামুন পটুয়াখালী-৩, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ঝিনাইদহ-৪, ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড়-২, তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোর-১, মাহবুবুল হক নান্নু ঝালকাঠি-২, আবদুল আউয়াল খান কুমিল্লা-৪, নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪, শেখ মোহাম্মদ শামীম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, হায়দার আলী লেলিন ভোলা-১, মামুন হাসান ঢাকা-১৫, আবদুল লতিফ জনি ফেনী-৩, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান বরিশাল-৪, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক শেখ রবিউল আলম ঢাকা-১০, মেহেদী হাসান সুমন দিনাজপুর-১ এবং ড. মিজানুর রহমান মাসুম গাইবান্ধা-৩ থেকে মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

জুন ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মে   জুলাই »
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
আরও পড়ুন