৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

EN

পয়লা বৈশাখ বনাম পান্তা ভাত

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ , ১৫ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

আমার এক বন্ধুর পেটে গ্যাসের মারাত্মক সমস্যা। পুরো দেশ গ্যাস সঙ্কটে থাকলেও তার পেটে কখনো গ্যাসের সঙ্কট হয় না, বিধায় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধই তার নিত্যসঙ্গী। ডাক্তার তাকে বারবার পরামর্শ করছে নিয়মিত পান্তাভাত খেতে। পান্তাভাত খেলে নাকি পেটের গ্যাস তেল আই মিন গ্যাসের সমস্যা দূর হয়। কে শোনে কার কথা, ডাক্তারের পরামর্শে সে নাক সিটকায়। তার মতে পান্তাভাত খাওয়ার চেয়ে উপোস থাকাই নাকি উত্তম। অথচ আমার সেই বন্ধুকে গত বছর পয়লা বৈশাখে পেটপুরে পান্তাভাত খেতে দেখেছি। তবে গ্যাস তাড়ানোর জন্য নয়, সে খেয়েছে বাঙালির সংস্কৃতি পালনের জন্য।
জাতীয় মাছ হিসেবে ইলিশ মাছের একটা বিশাল দাপট আছে তা কেবলই টের পাওয়া যায় পয়লা বৈশাখে। ইলিশের দাম শুনে অনেকেই মাথা ঘুরে জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়। আবার কারো কাঁপুনি দিয়ে জ্বর ওঠে। বিবাহিত পুরুষের মানিব্যাগের বেহাল দশা ঘটে। কামার যেমন হাতুড়ি দিয়ে লোহা পেটায়, পয়লা বৈশাখে মানিব্যাগের ওপর তেমনি হাতুড়ির পেটা পড়ে।
প্রতি বছর বৈশাখের আগের দিন আমার স্ত্রী বাজারের দু’টি লিস্টি হাতে ধরিয়ে দেয়। একটি বাজারের নিয়মিত লিস্টি অন্যটি বৈশাখের লিস্টি। বৈশাখের লিস্টিতে বাচ্চা-কাচ্চার বৈশাখী ড্রেস, বউয়ের বৈশাখী শাড়ি আর জাতীয় মাছ ইলিশ তো আছেই। গত বছর পয়লা বৈশাখে আমার স্ত্রী ইলিশ মাছের জন্য যতটা কঠিন চাপ প্রয়োগ করল আমার ওপর বৈশাখী ড্রেসের জন্য ঠিক ততটা চাপ প্রয়োগ করেনি। বউয়ের সোজা কথা বৈশাখী ড্রেস সম্ভব হলে বাসায় নিয়ে আসবেন, তবে ইলিশ মাছ আমার চাই…চাই। অনেকটা হুঙ্কার ছুড়ে বউ আমাকে বলল, কোটি টাকা দিয়ে হলেও ইলিশ মাছ ঘরে নিয়ে ঢুকবেন। আমিও নাছোড়বান্দা প্রশ্ন করে বসলামÑ হঠাৎ করে ইলিশ মাছের জন্য এত দেওয়ানা কেন? অকপটে বউ বলল, পাশের বাসার মোখলেছ ভাইয়ের স্ত্রী চামেলি ভাবী জিদ ধরে বসেছেন, যার বাসায় ইলিশ মাছ আগে আসবে সেই নাকি খাঁটি বাঙালি। বউয়ের কথা শুনে পয়লা বৈশাখের আগের দিন হন্যে হয়ে বাজারে ইলিশ মাছ খুঁজলাম।
বিধিবাম! ইলিশ মাছ পাওয়া দূরের কথা বাজারে একটা পুঁটি মাছেরও দেখা মিলল না। রাত্রে খালি হাতে বাসায় ফিরলাম ভেজা বিলাইয়ের মতো। হাতে ইলিশ মাছ না দেখে বউ রাগে-অভিমানে খাওয়াদাওয়া না করেই শুয়ে পড়ল। বৈশাখের দিন সকালবেলা মোখলেছ ভাইয়ের স্ত্রী ইয়া মোটা একটি ইলিশ মাছ নিয়ে আমাদের বাসায় হাজির। ইলিশ মাছ দেখে বউয়ের চোখ ছানাবড়া। আড় চোখে আমার দিকে চেয়ে বললÑ তুমি তো বাঙালি না, তোমার মতো মিশ্র প্রজাতির সাথে আমার বিয়ে হয়েছে ভাবতেও লজ্জা লাগে। টেরা মোখলেছ বাজার থেকে ইলিশ মাছ সংগ্রহ করতে পারে, আর তোমার বেলায় ইলিশ মাছ হাওয়া হয়ে যায়। সেদিনকার বৈশাখের দিন আমার জন্য কতটা আনন্দের ছিল তা কেবল আমি আর মানিব্যাগই ভালো টের পেলাম। অবশ্যই পরে জানতে পারলাম মোখলেছ ভাই নাকি মাসখানেক আগে ইলিশ মাছ সংগ্রহ করে ফ্রিজে স্টক করে রেখেছিলেন। এর পর থেকে বৈশাখ এলে আমারও আর ভুল হয়নি। এ বছরও আগে ভাগেই দু’টি ইলিশ মাছ কিনে ফ্রিজে রেখে দিয়েছি, তবে জানি না মোখলেছ ভাইয়ের স্ত্রী চামেলি ভাবীর খবর কী?

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মার্চ   মে »
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
আরও পড়ুন